বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ,
৯ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি, দুপুর ২:৪২

মিজমিজি পাইনাদি রেকমত আলী উচ্চবিদ্যালয়ে গার্মেন্ট ভাড়া এসএসসি ফরম ফিলাপে অতিরিক্ত ফি আদায়,ও অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

সিদ্ধিরগঞ্জ প্রতিনিধি
নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে মিজমিজি পাইনাদী রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয় ভবনে গার্মেন্ট ভাড়া, এস.এস.সি ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত ফি আদায়, ফান্ডের টাকা আত্মসাতসহ নানা অনিয়ম দুর্নীতি অভিযোগে প্রধান শিক্ষকসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন স্কুলের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে স্কুল প্রাঙ্গনে এ বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের অভিযোগ স্কুলের প্রধান শিক্ষক, স্কুলের দাতা সদস্য ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বিভিন্ন সময় উন্নয়নের নামে লাখ লাখ টাকা লুটপাট করেছেন। যার প্রমান চাইতে গেলে তারা কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারেনি। স্কুলের জন্য জমি ক্রয়ের নামে লাখ লাখ টাকা দূর্নীতি করেছেন তারা। বর্তমানে আমাদের শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এস.এস.সি ফরম ফিলাপের জন্য অতিরিক্ত ফি আদায় করছেন। ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় স্কুলের শিক্ষকরা আমাদের বিভিন্ন হুমকি ধমকি দিয়ে যাচ্ছেন।
এদিকে মিজমিজি পাইনাদী রেকমত আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে বিক্ষোভ শেষে দশম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মো. আদনান বলেন, গোপন সূত্রে জানতে পারি সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবুর রহমান স্কুল ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি থাকাকালীন ১০ জন দাতা সদস্যের কাছ থেকে স্কুল ফান্ডের জন্য জনপ্রতি ২ লাখ টাকা করে সর্বমোট ২০ লাখ টাকা নেন। কিন্তু আমরা জানতে পারি ওই ২০ লাখ টাকা থেকে তারা ১৩ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেছেন। পরবর্তীতে জানতে পারি স্কুলের উন্নয়নের জন্য সরকার ২০ লাখ টাকা দিয়েছে। স্কুলের উন্নয়নের জন্য সরকার ২০ লাখ টাকা দিলেও স্কুল ফান্ডের ১০ লাখ টাকা কোন খাতে ব্যয় করা হয়েছে প্রধান শিক্ষক এর সদুত্তর দিতে পারেননি। শিক্ষার্থীরা আরও বলেন,দূর্নীতি ও অনিয়মের বিষয় গুলো জানতে চাইলে আমাদের সাথে খারাপ ব্যবহার করেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী, সহকারী শিক্ষক আব্দুল মতিন, সহকারী শিক্ষিকা পারভীন, জসিম উদ্দিন ও আরিফুজ্জামান আমাদের হত্যা মামলার ভয় দেখান।
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী জানান, স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী স্যার ও স্কুলের দাতা সদস্যরা আমাদের স্কুল ভবনের শ্রেনী কক্ষে বহিরাগতদের দিয়ে পোশাক তৈরির কারখানা (গার্মেন্ট) ভাড়া দিয়েছেন। কম্পিউটার প্রশিক্ষণেও একই অবস্থা ছাত্রদের কম্পিউটার শেখানো হয়না, টাকার বিনিময়ে বহিরাগতদের কম্পিউটার শেখানো হচ্ছে।।যা কোন ভাবেই যুক্তিক নয় বলে মনে করেন শিক্ষার্থীরা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দীর্ঘদিন ধরে এই পোশাক কারখানা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। প্রতিমাসে তারা ( প্রধান শিক্ষক, দাতা সদস্য) ভাড়া নিচ্ছেন। স্কুলের দাতা সদস্য ও স্কুল ম্যানেজিং কমিরি সাবেক সভাপতির আব্দুর রহিম মেম্বার স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে আলীশান একটি চেয়ারে নিয়মিত অফিস করছেন বছরের পর বছর ধরে। তিনি এখনো স্কুলে প্রভাব বিস্তার করছেন বলে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
এসএসসি ফরম ফিলাপে বিজ্ঞান শাখায় সরকার নির্ধারিত ২২৪০ টাকার স্থলে নিচ্ছেন ২৫০০-২৬০০ এবং মানবিক ও কমার্স শাখায় ২১৪০ টাকার স্থলে ২৫০০-২৬০০ টাকা নিচ্ছেন।
অনিয়ম, দূর্নীতি ও এসএসসি ফরম ফিলাপের অতিরিক্ত ফি আদায়ের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলী বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সকল আয় ব্যয়ের হিসেব তার কাছে রয়েছে। কোন প্রকার অনিয়ম ও দূর্নীতি হয়নি। তবে যে অতিরিক্ত ফি আদায় করা হয়েছিল তা শিক্ষার্থীদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্কুলের ম্যানেজ কমিটি সাবেক সভাপতি ও দাতা সদস্য আব্দুর রহিম এখনো নিয়মিত স্কুলের প্রধান শিক্ষকের কক্ষে একটি আলীশান চেয়ারে বসে থাকেন প্রতিদিন এবং প্রভাব বিস্তার করে করছেন প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্যদের দিয়ে স্কুলের দুর্নীতি ও অনিয়মে সার্বিক সহযোগিতা করছেন এ বিষয়ে বলেন, আমি এমনিতেই স্কুলে নিয়মিত যাই শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে আসছে কিনা জানতে। সরকারীভাবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণের জন্য কিছু মেশিনারীজ দেয়া হয়েছে সে মেশিন দিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বাস্তবে শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ না দিয়ে বহিরাগতদের কাছে গার্মেন্ট ভাড়া দেওয়া হয়েছে এ ব্যাপারে তিনি বলেন অনিয়মের বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না ।
এদিকে শিক্ষার্থীদর আন্দোলন ঠেকাতে স্থানীয় বিএনপির নেতা এমএ হালিম জুয়েল, রওশন আলী, সালাউদ্দিন স্কুলে এসে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা শুনেন। শনিবার এ বিষয়ে স্কুুলে বসে প্রধান শিক্ষকসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে আলোচনা করে বিষয়টি নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াস উদ্দিনকে অবগত করে সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হবে বলে ওই সকল বিএনপির নেতারা জানিয়েছেন এবং সে পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য স্কুলের সভাপতিকে বিষয়টি দেখার জন্য বলছি।

ফেসবুক থেকে মন্তব্য করুন

এই বিভাগের আরও খবর


ফেসবুকে আমরা